
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলায় তার কথিত প্রেমিক রাজুকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাজমিন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে রাজুর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাজমিনের সঙ্গে শেষ যোগাযোগের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানান রাজু।
রাজুর দাবি, রাতে তাজমিন কুমিল্লা শহরের বাসায় গিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ দেখতে পায়। পরে মা-বাবাকে ফোন করেও সাড়া না পেয়ে বিষয়টি তাকে জানায়। বাসায় ঢুকতে না পেরে তাজমিন এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজু জানান, সকালে বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা বললে তিনি তাজমিনকে ভিডিও কল করেন। এ সময় তাজমিনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পেয়ে বকাঝকা করেন। এরপর তাজমিন ফোন কেটে দেয় এবং খুদে বার্তায় তাকে চিন্তা না করতে বলে সকালে বাসায় ফেরার কথা জানায়।
রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তিনি তাজমিনের কাছে জানতে চান, সে আসলে কাকে ফোন করেছিল। তাজমিন এক বন্ধুকে ফোন করার কথা বলেছিল। রাজুর দাবি, এখন তাঁর মনে হচ্ছে, তাজমিন মূলত ওই সিএনজিচালককেই ফোন করার কথা বোঝাতে চেয়েছিল।
গত ৭ অক্টোবর বাড়ি ফেরার পথে কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরদিন সকালে ভোলারজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাজমিনের যাতায়াত, যোগাযোগ এবং হত্যাকাণ্ডের আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে তদন্ত চলছে।